শুক্রবার, মে ০১, ২০২৬
জাতীয়
30 Apr, 2026

রাজশাহীতে হাসপাতালের এমডির বিরুদ্ধে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও হয়রানির অভিযোগ

WP Import ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৮:১৮ অপরাহ্ন জাতীয়
WP Import ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৮:১৮ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে হাসপাতালের এমডির বিরুদ্ধে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও হয়রানির অভিযোগ
রাজশাহীতে হাসপাতালের এমডির বিরুদ্ধে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও হয়রানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) হুমায়ুন খালেদ ওরফে শিহাবের বিরুদ্ধে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজশাহী নগরীর শালবাগানস্থ প্রফেসার পাড়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন হাসপাতালের বেশ কিছু শেয়ারহোল্ডার।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন হাসপাতালের শেয়ারহোল্ডার শামিম আহমেদ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাজশাহীতে একজন ভুক্তভোগী শেয়ারহোল্ডার হিসেবে আজ আপনাদের সামনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরতে এসেছি।
আমিসহ ৬২ জন শেয়ারহোল্ডার রাজশাহী জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ১০০টি শেয়ারের মালিক। আমরা ২০১৮ সালে একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে যৌথভাবে ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি চালু করি এবং পরে ২০২১ সালে হাসপাতাল ও এমআরআই সার্ভিস চালু করি।

প্রতিষ্ঠানের শুরু থেকেই হুমায়ুন খালেদ ওরফে শিহাব ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্বে রয়েছেন। অথচ আজ আমরা অত্যন্ত দুঃখ ও ক্ষোভের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, দীর্ঘ ৮ বছরে তিনি আমাদের কোনও হিসাব দেননি। বরং দীর্ঘ এই সময়ে এমডি হুমায়ুন খালেদ ওরফে শিহাব প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শেয়ারহোল্ডারদের কোনো অনুমতি বা পরামর্শ ছাড়াই প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় আয়-ব্যয়ের নিয়ন্ত্রণ এককভাবে পরিচালনা করছেন এমডি। বিগত বছরগুলোতে কোনও নিরীক্ষা (অডিট) সম্পন্ন করতে দেননি। শেয়ারহোল্ডাররা হিসাব চাইলে হুমকি-ধামকি, ভয়ভীতি সহ অস্ত্র প্রদর্শন করেন এবং মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় শিহাব সশরীরে প্রতিষ্ঠানে এসে সিসি ক্যামেরা ভাঙচুরসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন, যা প্রতিষ্ঠানের নিয়ম বহির্ভূত ও অপরাধ।

এতে আরো বলা হয়, শিহাব অল্প কয়েক বছরের ব্যবধানে রাজশাহী নগরীতে একাধিক ফ্ল্যাট, পাঁচতলা ভবন, পাবনায় ডুপ্লেক্স বাড়ি সহ বহু সম্পদের মালিক হয়েছেন এবং ১৩ থেকে ১৫ জনের শেয়ার ক্রয় করেন। এসব অর্জন তার প্রকৃত আয়ের সাথে সাংঘর্ষিক, যা অর্থ আত্মসাতের আশঙ্কাকে আরো জোরালো করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে শামিম আহমেদ বলেন, এমডি শিহাব দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত বলে দাবি করেন এবং রাজশাহীর সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও নগরীর চন্ডিপুরের শুটার রুবেলের সহযোগী ছিলেন। এছাড়া এর আগে রুবেলের নাম ভাঙিয়ে আমাদের উপর প্রভাব বিস্তার ও ভয়ভীতি দেখান। শিহাব গত বছরের জুলাই-আগষ্টে ছাত্র জনতার আন্দোলনে বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগান দাতা। তিনি এখনো কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ সহ দলটির সন্ত্রাসীদের নিয়ে নিয়মিত চলাফেরা করেন করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডাররা ৬টি দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলো হলো- পূর্বের ৮ বছরের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিতে হবে; স্বীকৃত অডিট ফার্ম দ্বারা প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষ অডিট সম্পন্ন করতে হবে; ভুক্তভোগী শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি হয়রানি বন্ধ করতে হবে; শিহাবের অবৈধ কর্মকাণ্ড ও সম্পদের তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ; প্রতিষ্ঠানসহ শেয়ার হোল্ডারগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা ও শিহাবকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার করতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে শামিম আহমেদ বলেন, শিহাব কর্তৃক হয়রানি, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার পেতে আমরা সাংবাদিকদের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শেয়ারহোল্ডার হাফিজুর রহমান, আতাউর রহমান, আবু সাঈদ, মজিবর রহমান প্রমুখ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন খালেদ ওরফে শিহাব গণমাধ্যমকে বলেন, সাক্ষাতে আলাপ করি অফিসে আসেন। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, প্রতিমাসে স্বাক্ষর করে সকল শেয়ারহোল্ডাররা লভ্যাংশ নিয়ে যান। তাদের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।